ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ , ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিঙি নৌকায় দোলে জীবন: ঝুঁকির সঙ্গে বেড়েছে দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০৩:০৯:৫৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০৩:০৯:৫৯ অপরাহ্ন
ডিঙি নৌকায় দোলে জীবন: ঝুঁকির সঙ্গে বেড়েছে দুর্ভোগ ছবি : সংগৃহীত
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি কাঠের সেতু ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকার পর সম্প্রতি সেতুটির একাংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে ওই এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে প্রাণনাথ চর ও আশপাশের এলাকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকা কিংবা সেতুর অবশিষ্ট অংশ ব্যবহার করে নদী পারাপার করছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

মিজানুর  রহমান নামে এক  শিক্ষার্থী বলেন, কাঠের সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন স্কুলে যেতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। নদী পার হতে ভয় লাগে দ্রুত সেতুটি ঠিক হয়ে গেলে আমাদের পড়াশোনায় আর সমস্যা থাকবে না।

আরেক শিক্ষার্থী  সাইমুন বলেন, বর্ষার সময় নদীতে পানি বেশি থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। আমরা চাই কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ করে দিক।

এদিকে গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও জরুরি রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিকল্প নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় অনেককেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সামিমুল বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও অসুস্থ মানুষ বেশি সমস্যায় পড়ছেন। আমরা আশা করছি, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একটি নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করবে এবং স্থায়ী সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেবে।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম সরকার বলেন, এই সেতুটি শুধু মানুষের চলাচলের জন্য নয়, কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা হলে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমবে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।

তিস্তা নদী বেষ্টিত প্রাণনাথ চর ও আশপাশের এলাকাগুলো মূলত কৃষিনির্ভর। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষকরাও উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো হাট-বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

তাদের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে একটি নিরাপদ বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি প্রাণনাথ চর এলাকায় একটি স্থায়ী ও টেকসই পাকা সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।

এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের চলাচলে যেন কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকে, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনদুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 


 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ